বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
অর্থনীতি ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থপাচার রোধে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব গাইডলাইন আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর গাইডলাইন অনুসরণ করে এই গাইডলাইন তৈরি করতে হবে। ‘গাইডলাইন ফর প্রিভেনশন অব ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং’ শীর্ষক এই গাইডলাইন তৈরি করে জমা দিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গত ২৫ আগস্ট চিঠি দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের উপায় নির্ধারণের বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর বিএফআইইউয়ের গাইডলাইন বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে গত ৯ আগস্ট একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার কার্যবিবরণী ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ওই সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগ-ডিভিশনে গ্রাহক, ব্যবসায়ের পরিধি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় লোকবল পদায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে লোক নিয়োগ দিতে হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগ ও অনুমোদিত ডিলার শাখায় দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে একটি গাইডলাইন তৈরি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা দিতেও বলা হয়েছে।
জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অর্থপাচারের বড় অংশই হচ্ছে বৈদেশিক বাণিজ্যভিত্তিক। এক্ষেত্রে রফতানির মূল্য কম দেখানো হয়। অনেক সময় রফতানির মূল্য দেশে না এনে বাইরে পাচার করে দেওয়া হয। এছাড়া, আমদানির মূল্য বেশি দেখিয়ে দেশ থেকে অর্থ পাচার করা হয়। বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থপাচার বন্ধে পণ্যের মূল্য তদারকির বিষয়ে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ গড়ে তোলার বিষয় পরীক্ষা করে দেখতে বলা হয়েছে সভায়। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব উদ্যোগে ডাটাবেজ গড়ে তোলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এই বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অর্থপাচারের বড় মাধ্যম বৈদেশিক বাণিজ্য। এতে অর্থনীতির অনেক ক্ষতি হচ্ছে। অর্থপাচার বন্ধে ব্যাংকগুলোকে নীতিমালা বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’
জানতে চাইলে বিএফআইইউ-এর প্রধান রাজী হাসান বলেন, ‘‘বিএফআইইউ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সিআইডির যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা ‘বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি নিরূপণ’ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং ও বিদেশে অর্থপাচারকে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’’ এসব বিষয়ে কঠোর তদারকি হলে অর্থপাচার কমে যাবে বলেও তিনি মনে করেন।
নগর কন্ঠ.কম/এআর